ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
2019/03/20

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা


কর্মক্ষেত্রে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য

উন্নত বিশ্বে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী কেবল বিষণ্নতার কারণে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না বিষণ্নতার কারণে বছরে গড়ে ৩৬ কর্মদিবস নষ্ট হয় কিন্তু বিষণ্নতায় আক্রান্ত ৫০ শতাংশ কর্মী চিকিৎসা সেবা নেন না অনেক সময় মানসিক সমস্যার কথা মুখ ফুটে বললে চাকরি হারানোর ভয় থাকে দেশে অনেক ক্ষেত্রে নারীদের মধ্যে কর্মস্থলে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে তবে কাজের চাপ, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, উদ্বেগ, পরিবারে সময় কম দেওয়া ইত্যাদি কারণে নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর মানসিক চাপ বাড়ে, যা কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়


কর্মক্ষেত্রকে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব করতে এবং নারীকর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে চাকরিদাতা কর্মীদের সচেতন হতে হবে অনেক সময় নারীরা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বা যৌন নিগ্রহের শিকার হয় কখনো কখনো দেখা যায় তাদের প্রতি অতিরিক্ত কাজের চাপ দেয়া হয় এবং মজুরী কম দেয়া হয় সুস্থ্য কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করতে তাই সেখানে যাতে কোন প্রকার লিঙ্গবৈষম্য না থাকে, যে কোন নারী কর্মী যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে

অনেক কর্মক্ষেত্রে কাজের পরিবেশের কারনে কর্মীদের শারীরিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকে যেমন নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট না থাকা, জরুরী সময়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়ার ব্যাবস্থা না থাকা, প্রসব কালীন ছুটি না থাকা, শিশু যত্নের ব্যাবস্থা না থাকা ও শিশকে স্তন্যপান করাতে না পারা, বুলি, যৌন হেনস্থা বা নির্যাতনের শকার হওয়া ইত্যাদি

শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, কর্মীদের মনের যত্নের জন্য কাজের পাশাপাশি বিনোদনমূলক কার্যক্রম চালু রাখা যেমন পিকনিক, চা চক্র ইত্যাদি কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবেকর্তৃপক্ষ এগিয়ে না এলেও কর্মীরা নিজেরা দলবদ্ধ ভাবে বিনোদনের জন্য নানা কার্যক্রম চালু করতে পারেন

কর্মক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে স্বচ্ছ সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে শিখুন যে কারও সাফল্যকে উদ্যাপন করতে হবে, ব্যর্থতাকে বারবার তুলে ধরা যাবে না, ব্যঙ্গবিদ্রূপ করা চলবে না

যেসব নারীকর্মীর শিশুসন্তান রয়েছে, তাদের জন্য কর্মক্ষেত্রেশিশু যত্ন কেন্দ্রথাকা উচিত  

কারও মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা আচরণজনিত সমস্যা দেখা দিলে সেটি নিয়ে তার সঙ্গে আলাদা কথা বলতে হবে কর্ম ক্ষেত্রে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে হলে প্রথমত যেই কাজটি করতে হবে তা হচ্ছেকর্ম ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে হবে

কর্ম ক্ষেত্রে নারীর  যদি কোন যৌন নিগ্রহের ঝুঁকি থাকে সেই ঝুঁকি দূর করতে করতে হবে এবং কর্ম ক্ষেত্রে নারীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে  এই ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় ভূমিকা কিন্তু তার পুরুষ সহকর্মীদের পুরুষ সহকর্মীরা তার সঙ্গী নারী কর্মীর  নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রাখবেন , তার প্রতি যেন কোনো বৈষম্য বা যৌন হয়রানি না হয় সেজন্য সচেষ্ট হবেন

কর্ম ক্ষেত্রে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নীতিমালা সংযোজন করা জরুরী

আরো পড়ুন