ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ
2019/03/20

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা


স্ত্রীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বামীর ভূমিকা

নারীর যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং তার গর্ভকালীণ ও প্রসব-উত্তর সময়ে  কখনো কখনো  মানসিক সমস্যা হতে পারে ।  এক্ষেত্রে, স্ত্রীর  মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নের জন্য স্বামীর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ।

গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী সময়ে একজন নারী পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন এর ঝুঁকিতে থাকে। গবেষণায় দেখা গ্যাসে প্রতি ১০ জনে এক থেকে দুই জন মা প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে। প্রসব পরবর্তী সময়ে শিশু লালন- পালনের ক্ষেত্রে নারীর মনের উপর চাপ পড়ে, অনেক সময় ছোট শিশুদের লালন পালন করতে যেয়ে মায়ের ঠিকমতো  খাওয়া-দাওয়া, বিশ্রাম ও ঘুম হয়না। এই সময় সবাই নতুন শিশুকে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে এবং মায়ের দিকে তেমন নজর দেওয়া হয় না। এই সময়ে শিশু লালন পালনে বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন যাতে করে মা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় ও নিজের জন্য সময় দিতে পারেন। এছাড়া মায়ের মধ্যে যদি বিষণ্ণতার কোন ধরনের লক্ষন দেখা দেয় তবে অতিসত্বর ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।     

এছাড়া যখন  মেনোপজ হয়ে যায়  অর্থাৎ পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় তখন হরমোনজনিত কারণে নারীর মধ্যে কিছু শারিরিক ও মানসিক লক্ষণ  দেখা দিতে পারে যেমন- হঠাত করে গরম লেগে ওঠা, ঘেমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এই সময়ে ঐ স্ত্রীর স্বামীকে নারীর মেনোপজ সংক্রান্ত শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় পরিবর্তন গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন এবং স্ত্রীর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করা প্রয়োজন। এগুলো নিয়ে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা আলোচনা করা, স্ত্রী কে আশ্বস্ত করা, তাকে মানসিক সাপোট দেওয়া, স্ত্রীর খাওয়া, ঘুম, শিশু লালন-পালন সহ পারিবারিক কাজে সহায়তা করা বিশেষ প্রয়োজন।

পিরিয়ড, গর্ভকালীণ আর প্রসব পরবর্তী সময়ে ইস্ট্রেজেন, প্রজেস্টেরণ সহ নানাবিধ হরমোনের কারণে নারীর চিন্তা আর আচরণের পরিবর্তন হয়ে থাকে।  এসময় নারীর আবেগকে বুঝে তার সাথে সেই ধরণের আচরণ করতে হয়।  পরিবারের পুরুষ সদস্য বিশেষ করে স্বামী এসময় স্ত্রীকে মানসিক ভাবে সহায়তা করবেন, তার শরীরের যত্ন নিবেন পাশাপাশি সংবেদনশীল আচরণ করবেন।  এই সময়গুলোতে একজন স্বামী  তার স্ত্রীকে গুণগত সময় দেবেন এবং যেকোনো ধরণের দ্বন্দ্ব পরিহার করবেন।

নারী পুরুষের  যৌনজীবনের গুরুত্ব অপরিসীম। যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুরুষকে নারীর মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল নিজের প্রয়োজনে পুরুষ যেন এই যৌনতাকে ব্যবহার না করেন। এই  বিষয়গুলো মাথায় রেখে সহায়তার  সময় হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। যখন  চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

নারীরা বিষণ্নতায় তুলনামূলক বেশি ভোগেন। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। মানসিক সমস্যাকে আমলে নেওয়ার মতো মানসিকতা মেয়েদের মধ্যে এখনো তৈরি হয়নি। এর বাইরেও আছে নারীর প্রতি সহিংসতা, গৃহকর্মে নানা দুর্ঘটনা, মেয়েলি সমস্যা প্রকাশে জড়তা প্রভৃতি। সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে নারীস্বাস্থ্যের প্রতি তিনটি বড় হুমকিকে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা—অপুষ্টি, গর্ভধারণজনিত জটিলতা ও অত্যধিক কাজের চাপ। এই দুষ্ট বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে হবে মেয়েদের, পরিবারকেও। মনে রাখতে হবে নারীর মানসিক সমস্যা শুধুমাত্র নারীকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না এটি সমগ্র পরিবারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  

আরো পড়ুন