মানসিক স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সমস্যাগুলোর প্রভাব কী?

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক অসুস্থতা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধিতার একটি প্রধান কারণ হতে পারে। উন্নত বিশ্বে ইতোমধ্যেই রোগসংক্রান্ত ভারের দিক থেকে হৃদরোগ ও ক্যানসারের পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতা শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান করছে। কোনো রোগের কারণে অকালমৃত্যু বা সৃষ্ট প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বহু বছর বেঁচে থাকার সম্মিলিত প্রভাব হচ্ছে ডিজিস বার্ডেন বা রোগসংক্রান্ত ভার।

বয়ঃসন্ধি বা সাবালকত্বের প্রথম দিকে মানসিক স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সমস্যাগুলোর শুরু হয়। জীবনের এ সময়ে শুরু হওয়া মানসিক অসুস্থতা তরুণ ব্যক্তিটির শিক্ষা, পেশাগত জীবনে প্রবেশ ও বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে এবং মাদকের অপব্যবহারকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলস্বরূপ, মানসিক অসুস্থতা একজন ব্যক্তির জীবনব্যাপী বিভিন্ন ধরনের অক্ষমতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সে কারণে এ ধরনের সমস্যাগুলো আবির্ভূত হওয়ার সময়েই নির্ণয় করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে উপযুক্ত চিকিৎসা ও সেবা পান তা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কিছু কিছু অসুস্থতা অকালমৃত্যুর মতো করুণ পরিণতি নিয়ে আসে। আবার কিছু কিছু রোগ সৃষ্টি করে নানা ধরনের প্রতিবন্ধিতা। মেডিকেল বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবন্ধিতা সৃষ্টিকারী অসুখগুলোর মধ্যে মানসিক অসুস্থতাই শীর্ষস্থানে রয়েছে। প্রতিবন্ধিতা বলতে একজন ব্যক্তির কাজ করা, নিজের যতœ নেওয়া এবং পরিবার কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একটি সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখায় কতটা অন্তরায় সৃষ্টি করে তা বুঝিয়ে থাকে। মানসিক অসুস্থতা যে মাত্রার প্রতিবন্ধিতা সৃষ্টি করতে পারে, তা শারীরিক অসুস্থতার মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিবন্ধিতার তুলনায় কোনো অংশে কম নয়।

 প্রায়ই দেখা যায় যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যানের মনোভাব ও কুসংস্কার তাদের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু মানসিক অসুস্থতার কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধিতা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না, তাই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। অসুস্থ হিসেবে দেখার বদলে তাদের দুর্বল, অলস, স্বার্থপর, অসহযোগী, মনোযোগ আকর্ষণকারী হিসেবে দেখা হয়। মানসিক সমস্যাকে সঠিকভাবে বোঝার ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যসম্পর্কিত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিকভাবে বৈষম্য ও কলঙ্ক আরোপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে তাদের সমস্যাগুলো এতটাই অনতিক্রম্য যে, এই অনুভূতি তাদের অসুস্থতাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অনেক সময় এটি প্রতিবন্ধিতাগুলোর প্রকৃতির কারণে ঘটলেও অপ্রতুল সহায়তা এবং সমাজে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের বোঝার চেষ্টা না করা ও তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি সমস্যাগুলোকে আরো গুরুতর করে তোলে।

এটা বোঝা জরুরি যে, অধিকাংশ মানসিক অসুস্থতার ঘটনা স্বল্পমেয়াদি। এমনকি গুরুতর, দীর্ঘমেয়াদি ও বারবার ফিরে আসা মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষেরাও সুযোগ পেলে একটি অর্থপূর্ণ সামাজিক জীবন সমন্বয় করে চলতে পারেন। অন্যদিকে, সমাজের উচিত হবে, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আর দশজন শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির মতো একই দৃষ্টিতে দেখা ও সহায়তা প্রদান করা। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন বন্ধুবান্ধব, পরিবার ও সমাজের সহায়তা ও সম্মান।