স্টিগ্মা ও বৈষম্য কী?

 

ব্যক্তির আরোগ্যের পথে বাধাগুলোর মধ্যে সামাজিক কালিমা লেপন ও বৈষম্য রয়েছে শীর্ষস্থানে। রোগ নির্ণীত হওয়ার ফলে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তির প্রতি প্রত্যাখ্যানের মনোভাব ও সামাজিকভাবে কলঙ্ক লেপন এ অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে পড়ে। 

মানসিক অসুস্থ্যতা নিয়ে আামদের সমাজে যেসকল কুসংকার প্রচলিত আছে:অভিশাপ, পাপের ফল, অমঙ্গলকর,ভুত/পেতের আসর, ছোয়াঁচে রোগ, যাদুটোনা, বদনজর /বদ বাতাস লাগা, আল্লাহর গজোব ইত্যাদি। 

মনে রাখতে হবে, মানসিক অসুস্থ্যতা কোন অভিশাপ নয়, নয় কোন পাপের ফল। চিকিৎসা না করার কারণে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিন্তা, আবেগ ও ব্যবহারে পরিবর্তন হতে পারে। এ অবস্থায় ব্যক্তির কর্মক্ষমতা বা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এর যথাযথ চিকিৎসা আছে এবং চিকিৎসা নিয়ে ব্যক্তি সম্পুর্ণ সুস্থ্য জীবন কাটাতে পারে। 

প্রাথমিক সেবা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন্স ফর মেন্টাল ডিজঅর্ডার’ , আইসিডি-১০, এর মতে, মানসিক স্বাস্থ্যজনিত রোগের চিকিৎসা মৌলিকভাবেই শারীরিকভাবে অসুস্থ রোগের চিকিৎসার মতো হওয়া উচিত। সংস্থাটি এটাও মনে করে যে, “মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত সকল ব্যক্তির অধিকার আছে উচ্চমানের চিকিৎসা এবং কার্যকর সেবা গ্রহণের। যে কোনো ধরনের অমানবিক ব্যবস্থা ও বৈষম্যের হাত থেকে তাদের রক্ষা করা উচিত।”

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়নের সময় মনে রাখতে হবে যে, মানুষ, পরিস্থিতি ও চিকিৎসাপদ্ধতি সবসময়ই পরিবর্তিত হচ্ছে :

  •  রোগের লক্ষণগুলোকে মোকাবেলা করতে এবং রোগের পুনরাবৃত্তিকে রোধ করতে মানুষ নতুন নতুন পদ্ধতি শেখে;
  •  যেসব পরিস্থিতি রোগের ফলে সৃষ্ট কষ্টকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছিল, সেগুলোকে এখন সমাধান করা হয়েছে অথবা সেগুলো এখন কম পীড়াদায়ক;
  •  সাইকোলজিক্যাল থেরাপি ও আত্মসহায়তার মতো নতুন ও আরো কার্যকর চিকিৎসা পন্থার উত্তর রয়েছে। এর অর্থ হলো, মানুষ এখন স্বল্পমাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে এবং চিকিৎসা চলাকালে অনেক বেশি কর্মক্ষম থাকবে অথবা দ্রুত আরোগ্যলাভ করবে অথবা পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে।

অতএব, এটা মনে রাখতে হবে যে, একটি মানসিক রোগ নির্ণয় সব ব্যক্তির জন্য সব সময়ে একই অর্থ বহন করে না। এ কারণে আমাদের সব সময়ই মনে রাখা উচিত যে, রোগের লক্ষণ ও উপস্থিতির ভিত্তিতে অনুমান না করে প্রত্যেক রোগী বা সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র হিসেবে দেখা উচিত।