মানসিক অসুস্থতার ব্যাপকতা কী?

মানসিক সমস্যার উপস্থিতি সারা বিশ্বজুড়ে সর্বময়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে ২০৩০ সাল নাগাদ, পৃথিবীতে রোগের বোঝা হিসেবে বিষন্নতা  থাকবে সবার আগে। বিশ্বে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ (সব বয়সের) বিষন্নতা  রোগে ভুগছে, যা কিনা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪.৪ শতাংশের সমতুল্য। পুরুষদের তুলনায় নারীরা বিষন্নতা  রোগে বেশি ভুগে থাকে (পুরুষ ৩.৬ শতাংশ এবং নারী ৫.১ শতাংশ)। প্রতি বছর প্রায় ৮০০,০০০ লোক আত্মহত্যা করে থাকে। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সের মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ আত্মহত্যা। বাইপোলার এফেক্টিভ ডিজঅর্ডারে ভুগছে প্রায় ৬০ মিলিয়ন মানুষ। সিজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছে প্রায় ২৩ মিলিয়ন মানুষ। সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছে এমন মানুষ সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছর আগে মারা যায়। এই অকালমৃত্যুর কারণ মূলত তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও সময়মতো মানসিক স্বাস্থ্যের চিকিৎসা হাতের নাগালে না পাওয়া।

বাংলাদেশে মানসিক রোগের ব্যাপকতা নিয়ে খুব বেশি গবেষণা না থাকলেও ২০১৪ সালে প্রকাশিত মেন্টাল ডিজঅর্ডার ইন বাংলাদেশ : এ সিস্টেমেটিক রিভিউ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মানসিক ব্যাধির পরিমাণ ৬.৫ শতাংশ থেকে ৩১.০ শতাংশ এবং শিশুদের মধ্যে ১৩.৪ শতাংশ থেকে ২২.৯ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা [ডিপ্রেশন এবং অন্যান্য সাধারণ মানসিক রোগ, ডব্লিউএইচও ২০১৭] অনুসারে, অনুমান করা হয় যে, বাংলাদেশে জনসংখ্যার ৪.১ শতাংশের বিষন্নতা  রয়েছে এবং ৪.৪ শতাংশের উদ্বেগব্যাধি আছে।

২০১১ সালে সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের আনুকল্যে করা আরেক গবেষণায় দেখা যায় ঢাকা মহানগরীর গবেষণার আওতাধীন নারীদের ১৭.৭ শতাংশের মধ্যে বিষন্নতা পাওয়া যায়। উক্ত গবেষণায় নারীদের মানসিক সমস্যার অন্তর্নিহিত কারণ হিসেবে যেসব সমস্যাকে তুলে ধরা হয় তা হলো পারিবারিক সহিংসতা, বিরূপ দাম্পত্য সম্পর্ক এবং সহযোগী শারীরিক সমস্যার উপস্থিতি (যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি)

মানসিক অসুস্থতাজনিত রোগগুলো প্রায়ই একটি আরেকটিকে নিয়ে আবির্ভূত হয়। উদাহরণস্বরূপ, উদ্বেগব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির বিষন্নতা য় ভোগা অস্বাভাবিক নয়। অথবা বিষন্নতা য় আক্রান্ত একজন ব্যক্তি তার অসুস্থতা থেকে মুক্তির চেষ্টা হিসেবে অ্যালকোহল অথবা মাদকের অপব্যবহার সমস্যায় ভুগতে পারেন। একের অধিক মানসিক রোগে আক্রান্ত অসুস্থতাকে ‘ডুয়েল ডায়াগনসিস, কোমোরবিডিটি ও কোঅকারেন্স’, ইত্যাদি বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।