মানসিক স্বাস্থ্য কী?

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, “স্বাস্থ্য হচ্ছে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক মঙ্গলের একটি পরিপূর্ণ সহাবস্থান। এটি শুধু রোগ বা জরাব্যাধির অনুপস্থিতি নয়।” স্বাস্থ্য প্রাত্যহিক জীবনের একটি অমূল্য সম্পদ। এটি সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পদের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাকে একীভূত করার একটি ইতিবাচক ধারণাও বটে।

মানসিক স্বাস্থ্য হচ্ছে : 

“...এক ধরনের সহিষ্ণুতা এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার মতো মানসিক ও আধ্যাত্মিক সক্ষমতা, যা আমাদের জীবন উপভোগ করতে এবং দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে সাহায্য করে। এটি সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার এক ইতিবাচক অনুভূতি, যা নিজের ও অন্যের সম্মান ও গুরুত্বের প্রতি বিশ্বাসকে নির্দেশ করে।”

(মেন্টাল হেলথ প্রমোশন : এ কোয়ালিটি ফ্রেমওয়ার্ক। হেলথ এডুকেশন অথরিটি, লন্ডন, ১৯৯৭)

“নিজেদের ও অন্যদের সম্পর্কে আমাদের চিন্তা ও অনুভব এবং চারপাশের ঘটনাগুলোকে অনুধাবন করার ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাব বিস্তার করে থাকে। শিক্ষা, যোগাযোগ এবং সম্পর্ক ভাঙা-গড়ার ক্ষেত্রে এটি আমাদের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। প্রসব, বাসা বদলানো ও নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর মতো জীবনের দৈনন্দিন ঘটনাসমূহ ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াতেও এটি আমাদের সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।”

(ফ্রিডলি, এল. মেন্টাল হেলথ ইম্প্রুভমেন্ট ‘কনসেপ্ট অ্যান্ড ডেফিনেশনস’ : ব্রিফিং পেপার ফর দ্য ন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি গ্রুপ। স্কটিশ এক্সিকিউটিভ, এডিনবার্গ, ২০০৪)

“মানসিক স্বাস্থ্য সার্বিকভাবে ভালো থাকার একটি প্রতিরূপ, যার মাধ্যমে প্রতিটি ব্যক্তি তার নিজস্ব সক্ষমতা অনুধাবন করেন, দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক চাপ মোকাবেলা করতে পারেন এবং ফলপ্রসূ ও সফলভাবে কাজ করে সমাজে অবদান রাখেন।” (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৪)

মানসিক স্বাস্থ্য একটি সূক্ষ্ম পরিবর্তনশীল অবস্থা, যেখানে ভালো ও খারাপ মানসিক স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অনির্ণীত মানসিক অসুস্থতা ও নির্ণীত মানসিক অসুস্থতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি তার জীবনের বিভিন্ন সময়ে এই মানসিক স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিভিন্ন অবস্থানে থাকতে পারেন। মানসিকভাবে সুস্থ অবস্থায় একজন ব্যক্তি তার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, ভালোভাবে চিন্তা করতে পারেন এবং তার চারপাশের মানুষের সাথে ইতিবাচকভাবে মেলামেশা করতে পারেন। এ অবস্থায় ব্যক্তি তার কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা কার্যক্রম, পরিবার এবং সমাজে সফলতার সাথে কাজ করতে সক্ষম থাকেন।