ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন (আইডব্লিউএফ)

 

“ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন” একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী ও উন্নয়নমূলক সংস্থা। আমরা জানি, পৃথিবীতে ৪৫০ মিলিয়ন মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং ৩৫০ মিলিয়ন লোক বিষন্নতায় ভূগছে। বর্তমান বিশ্বে প্রতিবন্ধীতার দ্বিতীয় বৃহত্তম কারন বিষন্নতা। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরীপের ফলাফল অনুযায়ী (২০০৩-২০০৫) দেখা যায়, এদেশের প্রায় ১৬.১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং ১৮.৪ শতাংশ শিশু মানষিক রোগে ভূগছে , যা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ।

ভয়াবহ এই  পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনে ”ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন”বাংলাদেশের মানুষকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে ও  মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে  ২০১৪ সাল  থেকে তার কার্যক্রম শুরু করে।

এই সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করণ ও কুসংস্কার দূরীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের মানসম্পন্ন ও টেকসই পরিবর্তন/উন্নয়ন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।

ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ”মানসিক স্বাস্থ-প্রাথমিক চিকিৎসা” এর উপর  ৩০০০ জনকে এই প্র্রশিক্ষণটি প্রদান করেছে। এই সংস্থা থেকে ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ৪৮০ জন স্কাউট লিডারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যারা কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাসনকি স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদানে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়াও ”ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন” বিভিন্ন আলোচনা সভা,  গণমাধ্যমের সাথে যৌথভাবে গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন, দিবস উজ্জাপন, মাসনিক স্বাস্থ্য সচেতনতার উপর প্রামাণ্য চিত্র তৈরি ও প্রচারের মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে।

অত:পর গত ২০১৭ সালে এট্যুআই প্রোগাম আয়োজিত ” উইমেন্স ইনোভেশন ক্যাম্প” ২০১৭ এ নারীর সমস্যা সনাক্তকরণ পরবর্তি সমাধানের উপায় নিয়ে নানা উদ্বাবনী চিন্তার প্রতিযোগিতা আহবান করে,  যেখানে সকল নারীর অংশগ্রহনের সুযোগ উম্মুক্ত ছিলো। এই প্রতিযোগিতায় ইনোভেশন ফর ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে এক অনন্য উদ্ভাবনী চিন্তা ”নারীর মানসিক স্বাস্থ্য” উপস্থাপন করেন এবং বিজয়ী হিসাবে নির্বাচিত হন।

একসেস টু ইনফরমেশন(এটুআই)

 

বাংলাদেশ সরকার এর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যের প্রেক্ষাপটে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম তার সূচনালগ্ন থেকেই নারীর সমতাকে সমর্থন করে আসছে এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত। এরকমই একটি উদ্যোগ হিসেবে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর যৌথ উদ্যোগে “উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প” প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য হলো সমাজে নারীদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহ্নিত করা এবং একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগুলোর সম্ভাব্য সমাধান প্রদান করা। প্রতিযোগিতার শেষে শীর্ষ সেরা ধারণা এবং সমাধানের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হবে এবং বাস্তবায়নোপযোগী ধারণাগুলোকে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক অনুদান ও কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হবে। 

উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প ২০১৬ এর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এটুআই প্রোগ্রাম “উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প” ২০১৭ আয়োজন করে যা সকল পর্যায়ের নারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিলো। উইমেন’স ইনোভেশন ক্যাম্প ২০১৭ এর জন্য সমস্যা সনাক্তকরণ গোলটেবিল বৈঠক থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমস্যার ক্ষেত্র  সনাক্তকরণের পরে প্রতিযোগিতাটিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করা হয়। সারা দেশ থেকে আবেদনকারীরা চিহ্নিত সমস্যাসমূহের সমাধানের জন্য তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া জমা দেয় পারবে এবং সবচেয়ে সম্ভাব্য এবং কার্যকর ধারনাগুলি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় চুড়ান্ত মনোনয়নের দিকে। 

শ্বাষরুদ্ধকর প্রতিযোগিতার পরে, অবশেষে চারটি ধারণা বিজয়ী হিসাবে নির্বাচিত হয় এবং এটুআই প্রকল্প হিসাবে প্রকল্পসমূহকে অর্থায়ন করা হয়। "নারীর মানসিক স্বাস্থ্য" প্রকল্পটির গৌরবময় সূচনা হয় এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রথমবারের মত বাংলা ভাষায় একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে যাতে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তৃত তথ্য পাওয়া যাবে। ইনোভেশন ফর ওয়েলবিইয়িং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মনিরা রহমানের উপস্থাপিত এই উদ্ভাবনী ধারণা, জুরি প্যানেলের পাশাপাশি অন্যান্য সহকর্মীদের মুগ্ধ করে দখল করে বিজয়ীর স্থান।